Skip to main content

১৯৮৫ সালে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সিরাজ উদ্দিন আহমদ

জৈন্তা এক্সপ্রেস 


শাহজাহান কবির খান জৈন্তা এক্সপ্রেসঃঃ
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জৈন্তিয়া ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির প্রাক্তন সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী আলহাজ্ব  সিরাজ উদ্দিন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন  (ইন্নাল্লিহ--- রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাহার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।


গত ২৪ আগস্ট বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নিজ বাসায় স্থানীয় সময় সকাল ১১টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ৪ পুত্র,২ কন্যা সন্তান, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী এবং রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন। 

সিরাজ উদ্দিন আহমদের সংক্ষিপ্ত জীবনী 

তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি  সিলেটের জৈন্তাপুর থানা সদরের চুনাহাটি মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। 

পিতা মরহুম আব্দুর রশিদ, মাতা মরহুমা হামিদা খাতুন। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় জৈন্তাপুর এম.ই স্কুল (বর্তমান জৈন্তাপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়)। তিনি হরিপুর বহুমখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তবে ১৯৬৪ সালে সেন্ট্রাল জৈন্তা হাইস্কুলের অধীনে তিনি


এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে সিলেট পলিটেকনিকেল কলেজে মেগানীক্যাল ইঞ্জিনিয়ারীং বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন । ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তাকে কয়েকদিন জেল কাটতে হয়েছিল।  শিক্ষা জীবন অসমাপ্ত করে পালিয়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে জুনিয়র কমিশন পদে যোগদেন। পশ্চিম পাকিস্তানী প্রশিক্ষকদের বৈশম্যমূলক আচরনের প্রতিবাদ করায় বাঙালির প্রশিক্ষনার্থীদের সাথে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ১৯৭০ সালে সরকারী শ্রম অধিদপ্তরে চাকুরী নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। 


১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি বগুড়ার গাইবান্ধা জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেন। ১৯৮০ সালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ডেপুটিশন বিভাগে বদলি হন এ সময় নানা চাপের মুখে তিনি চাকুরী হতে অব্যাহতি নেন । ১৯৮৩ সালে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন । তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ১৮ দফা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসাবে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত হন ।


১৯৮৫ সালে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের  প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি জৈন্তার শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি এলাকার ছাত্র ও যুব সমাজকে নিয়ে ১৯৭৫ সালে জৈন্তাপুর পল্লীমঙ্গল যুবসংঘ গঠন করেন, জৈন্তাপুরের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান । তিনি বৃহত্তর জৈন্তিয়া ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  ২০০৩ সালে সিলেট-তামাবিল জাফলং মহাসড়কে বিআরটিসি বাস আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আলহাজ্ব সিরাজ উদ্দিন আহমদ ১৯৭০ সালে রংপুর গাইবান্ধা শহরের বাসিন্দা মরহুম আব্দুস ছত্তারের কন্যা শামসুন নাহারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শামসুর নাহারই জৈন্তাপুর উপজেলার প্রথম মহিলা শিক্ষিকা তিনি দরবস্ত পাকড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শামসুন নাহার মানষিক ভাবে  অসুস্থ্য থাকায় পরবর্তীতে  গোয়াইনঘাট উপজেলার লাফনাউট এলাকার মরহুম শামসুল হকের কন্যা রেহানা বেগমকে বিয়ে করেন। তিনি ছয় সন্তানের জনক, দুই মেয়ে, চার পুত্র । 

তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য সহ জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের জীবন সদস্য এবং বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। 


তিনি ১৯৯৮ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন । পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমন করেছেন । আমেরিকা, লন্ডন, সৌদি আরব, দুবাই, ভারত, পাকিস্তান সহ কানাডা। বিগত কয়েক বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান শহরে পরিবারের সাথে বসবাস করছেন। তিনি কয়েক বছর থেকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ভাবে চলাফেরা করতে পারেন নাই। 


এদিকে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে  শোক প্রকাশ করা হয়েছে।  শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন ,জৈন্তাপুর  উপজেলা নিবার্হী অফিসার আল-বশিরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপামিন দেবী, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) গোলাম দস্তগীর আহমেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি এম ইসমাইল আলী আশিক , জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি নূরুল ইসলাম ও 

সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মো: হানিফ।


নেতৃবৃন্দ মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Comments

Popular posts from this blog

বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জৈন্তাপুরে

শাহজাহান কবির খানঃঃ বুধবার সকালে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে কৃষি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপামনি দেবী, সভায় সভাপতিত্বে ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শামীমা আক্তার। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি জৈন্তাপুর উপজেলা আব্দুল মান্নান। আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষক/কৃষাণী এবং কৃষি অফিসারগন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পাহাড় টিলা কাটা, নদী ভরাট ও অবাধে বন ধ্বংসের কারণে হুমকির মুখে আমাদের জীববৈচিত্র্য

জৈন্তাপুরে বাপা ও সারী নদী বাচাও আন্দোলনের নাগরিক বন্ধনে বক্তারাঃ শাহজাহান কবির খান জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকেঃঃ মানুষের সর্বগ্রাসী লোভ আর সর্বনাশা কর্মকান্ডের কারণে পরিবেশ মারাত্বক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। পরিবেশের মাটি, পানি, বাতাস সবকিছুই আজ দূষিত হয়ে উঠেছে। পাহাড়-টিলা কাটা আর অবাধে বন ধ্বংসের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। শুধু আইন দিয়ে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ অসম্ভব । এজন্য সর্বশ্রেণির মানুষের সচেতনতা ও জাগরণ ছাড়া পরিবেশের বিপর্যয় সম্ভব নয়।  বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ’নাগরিক বন্ধনে বক্তারা একথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেট জেলা শাখা ও সারি নদী বাঁচাও আন্দোলন’র যৌথ উদ্যোগে ৪ জুন শুক্রবার বিকেলে জৈন্তাপুরের ঐতিহাসিক বটতলায় এ নাগরিক বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ঠ মুরব্বি আব্দুস শুকুর এর সভাপতিত্বে ও সারী নদী বাচাও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল হাদির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ নাগরিক বন্ধনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। জৈন্তাপুর ইরাদবী'তে   বক্তারা আরো বলেন উন্নয়নের নামে পরিবেশ...

তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ভারতের হাই কমিশনার

ভারতের আসাম সহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করছি  -----হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান  জৈন্তাপুর থেকে শাহজাহান কবির খানঃঃ ভারতের নিউ দিল্লী'তে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।  বিশেষ করে আসামের গুয়াহাটি মিশন সহ আমাদের সবক'টি মিশন আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।  বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আন্তরিক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদশ-ভারত সম্পর্ক অনেক এগিয়ে গেছে।  গত ১৮ মে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে স্থানীয় প্রশাসন ও তামাবিল ব্যবসায়ী ও সূধিজনের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাই কমিশনার এসব কথা বলেন।  অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান।  মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গুয়াহাটি'তে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার রুহুল আমিন, নিউ ...