Skip to main content

জৈন্তাপুরের শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার্থীদের পদভারে মুখরিত


শাহজাহান কবির খান জৈন্তাপুরঃঃ

মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবশেষে খুলে দেওয়া হলো। নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা।

২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তৎসময়ে করোনা ভাইরাসের সংত্রুমন ও মৃত্যুর হার ছিল উর্ধগতি। এর পর থেকে কয়েক দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তা সম্ভব হয়নি। সর্ব শেষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১বছর ৬মাস ১দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা ফিরে এলো তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে। রোববার সকাল থেকে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক এবং সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকরা ক্লাস’র রুটিসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের উপর শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি স্কুলে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ার ব্যবস্থা। জৈন্তাপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থীদের ভিটামিন-সি টেবলেট খাওয়ানো হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, আমরা বিগত দিনগুলোতে স্কুলে আসতে না পারায় খুবই কষ্ট পেয়েছি এবং আমরা মনে করি আমাদের অনেক ক্ষতিও হয়েছে। তারা বলে আমরা অটো পাশ চাই না, আমরা লেখা-পড়া করে পরীক্ষার মাধ্যমে পাশ করতে চাই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সোলেমান হোসেন জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ করে দেখা যায়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সরকারের নির্দেশনা মেনে আজকের দিনটি পর করেছে এবং ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আগামী দিনের ক্লাস রুটিন জানিয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত আজমেরী হক’র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন প্রথম দিন হিসেবে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণে গিয়ে দেখলাম সবাই সরকারের দেয়া নির্দেষণা অনুসরন করছে। আমি সবাইকে বলেছি শিক্ষক-শিক্ষার্থী অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা যেনো ক্লাস রুমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সব রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা গেছে। 

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত আজমেরী হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম দস্তগীর আহমদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সোলেমান হোসেন, ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইয়াহিয়া, উপজেলা একাডেমীক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন।

Comments

Popular posts from this blog

বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জৈন্তাপুরে

শাহজাহান কবির খানঃঃ বুধবার সকালে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে কৃষি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপামনি দেবী, সভায় সভাপতিত্বে ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শামীমা আক্তার। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি জৈন্তাপুর উপজেলা আব্দুল মান্নান। আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষক/কৃষাণী এবং কৃষি অফিসারগন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পাহাড় টিলা কাটা, নদী ভরাট ও অবাধে বন ধ্বংসের কারণে হুমকির মুখে আমাদের জীববৈচিত্র্য

জৈন্তাপুরে বাপা ও সারী নদী বাচাও আন্দোলনের নাগরিক বন্ধনে বক্তারাঃ শাহজাহান কবির খান জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকেঃঃ মানুষের সর্বগ্রাসী লোভ আর সর্বনাশা কর্মকান্ডের কারণে পরিবেশ মারাত্বক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। পরিবেশের মাটি, পানি, বাতাস সবকিছুই আজ দূষিত হয়ে উঠেছে। পাহাড়-টিলা কাটা আর অবাধে বন ধ্বংসের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। শুধু আইন দিয়ে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ অসম্ভব । এজন্য সর্বশ্রেণির মানুষের সচেতনতা ও জাগরণ ছাড়া পরিবেশের বিপর্যয় সম্ভব নয়।  বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ’নাগরিক বন্ধনে বক্তারা একথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেট জেলা শাখা ও সারি নদী বাঁচাও আন্দোলন’র যৌথ উদ্যোগে ৪ জুন শুক্রবার বিকেলে জৈন্তাপুরের ঐতিহাসিক বটতলায় এ নাগরিক বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ঠ মুরব্বি আব্দুস শুকুর এর সভাপতিত্বে ও সারী নদী বাচাও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল হাদির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ নাগরিক বন্ধনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। জৈন্তাপুর ইরাদবী'তে   বক্তারা আরো বলেন উন্নয়নের নামে পরিবেশ...

তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ভারতের হাই কমিশনার

ভারতের আসাম সহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করছি  -----হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান  জৈন্তাপুর থেকে শাহজাহান কবির খানঃঃ ভারতের নিউ দিল্লী'তে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।  বিশেষ করে আসামের গুয়াহাটি মিশন সহ আমাদের সবক'টি মিশন আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।  বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আন্তরিক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদশ-ভারত সম্পর্ক অনেক এগিয়ে গেছে।  গত ১৮ মে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে স্থানীয় প্রশাসন ও তামাবিল ব্যবসায়ী ও সূধিজনের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাই কমিশনার এসব কথা বলেন।  অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান।  মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গুয়াহাটি'তে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার রুহুল আমিন, নিউ ...